হনী সকর্স ট্যাঙ্কার স্বচ্ছতার ইকোফ্রেন্ডলি বিকল্প

Submitted by Hindi on Sun, 07/24/2016 - 12:38
Source
বাংলায় অনুবাদ- সঞ্জয় অধিকারী

.ইউ. পি. এ. সরকারের নির্মল ভারত অভিযানের পর দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীজী দু-বছর আগে কার্যভার গ্রহণ করেই গান্ধী জয়ন্তীর দিন স্বচ্ছ ভারত অভিযান বেশ সোরগোলের সাথেই শুরু করেন l লক্ষ্য ছিল 2019-এর মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে শৌচালয় হবে l খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করা লোকের সংখ্যা প্রায় শেষ হয়ে যাবে কিন্তু এখনও দেশের প্রায় 53.1 শতাংশ লোকের ঘরে শৌচালয় নেই l

2011-র জনগণনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা 121 কোটি, যার মধ্যে 80 কোটি লোক-এর বেশি মানুষ বুনিয়াদী স্বচ্ছতায় বঞ্চিত রয়েছেন l আর শৌচালয়ের কথা বলতে গেলে বলতে হয় দেশের মোট 49.9 শতাংশ ঘরে শৌচালয় রয়েছে l শহরে 19.6 শতাংশ ঘরে শৌচালয় নেই আর গ্রামীন এলাকায় 69.3 শতাংশ ঘরে শৌচালয় নেই l

স্বচ্ছভারত অভিযানের কর্মসূচীতে প্রতি বছর 29 লক্ষ শৌচালয় তৈরী করার লক্ষ্য মাত্রা রাখা হয়েছে যদিও বিগত 4 বছরে গড় 57 লক্ষ শৌচালয়-ই নির্মান হয়েছে l এইভাবে চললে 2019 পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রা হাসিল করা মুশকিলl তবে এটা অবশ্যই বলা যায় শৌচালয়ের নির্মান ও ব্যবহার বিষয়ে আগের থেকে বেশি সচেতনতা ছড়িয়েছে l সরকারের সাথে সাথে মানুষজনও সচেতন হয়েছে l

লাগাতার শৌচালয়ের সংখ্যা বেড়ে চলেছে কিন্তু দেশের গ্রামীন এলাকায় বা শহুরে গ্রামীন এলাকায় বেশি সেপ্টিক ট্যাঙ্ক আর সিঙ্গল পিট-এর শৌচালরই তৈরী হয় l যেগুলি 2 থেকে 4 বছরের মধ্যেই ভরে যায় l তাই এগুলিকে খালি করা আর সঠিকভাবে ডাম্প করা জরুরী হয়ে পড়ে l

স্বচ্ছতার ইকোফ্রেণ্ডলি বিকল্প হল ট্যাঙ্কার-


এখানে দুটি ব্যবহারিক প্রশ্ন এসে পড়ে- এই ট্যাঙ্কগুলি পরিষ্কার হবে কিভাবে? আর দ্বিতীয়ত ট্যাঙ্কের ময়লা কোথায় কিভাবে ফেলা হবে? বেঙ্গালুরু আর কর্ণাটকে অনেক জেলাতেই হনী সকর্স ট্যাঙ্কার এই সমস্যাগুলি সাফল্যের সঙ্গে সমাধান করছে l সেইসাথে ছোট চাষী ও আরও কিছু মানুষের রোজগারের ব্যবস্থাও হচ্ছে l

হনী সকর্স ট্যাঙ্কার প্রেসার দিয়ে সেপ্টিক ট্যাঙ্কের ময়লা টেনে নেয় ও ময়লা ডাম্প করে দেয় l ব্যাঙ্গালুরু এইভাবেই বিগত কয়েক বছর ধরে নোংরা পরিষ্কারের গম্ভীর সমস্যাটির সমাধান করে চলেছে l প্রশাসন অতিরিক্ত ডাম্পিং গ্রাউণ্ড পাচ্ছে না, এমত অবস্থায় সিঙ্গল পিট শৌচালয়- গুলির নোংরা ডাম্প করা এক নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে l আর এটা শুধু ব্যাঙ্গালুরু নয়, দেশের প্রতিটি ছোট-বড় শহরেরই সমস্যা l কিন্তু ব্যাঙ্গালুরুতে হনী সকর্স ট্যাঙ্কারগুলি শৌচালয়ের নোংরা ডাম্প করার সঙ্গে সঙ্গে ‘ম্যানুয়ল স্কাবেজিং’ বা কাউকে অন্যের নোংরা হাত দিয়ে না পরিস্কার করানোর 2013-র আইনী পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ফলপ্রদ হয়েছে l

জৈবিক সার


2011 সালের জনগণনার পরিসংখ্যান বলছে দেশের 180.657 মানুষ হাতে দিয়ে নোংরা পরিস্কার করে তাদের রুটি-রুজি যোগাড় করে l যদিও 1933 সালেই আইন তৈরী করে হাতে নোংরা পরিস্কার করার উপর প্রতিবন্ধকতা লাগানো হয় l কিন্তু এখনও এই অভাবনীয় স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর রোজগারের রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয় নি l

2013 সালে সংসদে হাতে নোংরা পরিস্কার করার বিরুদ্ধে আইন তৈরী। একে ঐতিহাসিক অন্যায় আখ্যা দিয়ে এই কাজে যে সমস্ত মানুষজন যুক্ত ছিলেন তাদের জন্য বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করা ও তাদের পুনর্বাসন দেওয়া সংবিধানিক জিম্মা বলেও অভিহিত করা হয় l সেই সঙ্গে 2014 সালের মার্চ মাসে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাতে নোংরা পরিস্কার করার প্রথাটিকে অন্তঃরাষ্ট্রীয় মানবাধিকার হনন বলে আখ্যা দেন। সর্বোচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দেন এই প্রথা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার জন্য।

এখন যদি আমরা কর্ণাটক ও ব্যাঙ্গালুরুর কথা বলি তো- যে পাঁচটি রাজ্যে সব থেকে বেশি মামলা দাখিল হয়েছে হাতে নোংরা সাফ করানোর জন্য সেখানে কর্ণাটকের স্থান হল পঞ্চম l আর ব্যঙ্গালুরুতে প্রায় 60 শতাংশ ঘর নিকাশী ব্যবস্থার সাথে যুক্ত নয়, তাই এদেরকে নিজেদের ঘরের নোংরা জল অথবা শৌচালয়ের ট্যাঙ্ক ভরে গেলে সেই ময়লা সাফ করানোর জন্য অন্য বিকল্পের প্রয়োজন পড়ে l

ব্যাঙ্গালুরুতে বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারী ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হনী সকর্স ট্যাঙ্কার কাজ করছে l এই ট্যাঙ্কারগুলিকে তাদের ধার্য ভাড়া দিয়ে সময় সময় ট্যাঙ্ক খালি করানোর জন্য ডাকা হয় l এই ট্যাঙ্কগুলি ময়লা বার করে শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে ডাম্প করে দেয়। পর্যাবরণ আইন অনুসারে কিন্তু শোধন না করে কোথাও ময়লা ডাম্প করা আইনত অপরাধ l যদিও অ-শোধিত ময়লা ডাম্প করার জন্য নিশ্চিত সরকারী জায়গা রয়েছে, কিন্তু তার জন্য আলাদা করে শুল্ক দিতে হয় l

সবার জন্য লাভজনক-


.হনী সর্কস ট্যাঙ্ক্যরের সঞ্চালকরা ও মানুষজন মিলে বিগত কয়েক বছরে স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপায়ও বার করেছে l পরিবেশ উপযোগী ও কয়েক প্রকারের রোজগারের পথসহ খুবই উপযোগী প্রনালী প্রমানিত হচ্ছে l যদিও মানব মল সার হিসেবে ব্যবহার করায় আশপাশের চাষিদের কিছুটা আপত্তি অবশ্যই ছিল কিন্তু পরে ধীরে ধীরে তারা প্রাকৃতিক নোংরা ও জৈবীক বিবর্তনের প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারে l

জৈবীক মলে প্রাকৃতিকভাবেই নাইট্রোজেন, ফস-ফরাস ও পটাশিয়াম ছাড়াও আরও কয়েক প্রকার সুক্ষ্ম উপাদানে ভরপুর থাকে l যা চারা গাছের জন্য খুবই উপকারী l অন্যদিকে এই একই উপাদানযুক্ত রাসায়নিক সার খরচ সাপেক্ষ এবং হানিকারক হয়। এছাড়াও বলা যায় রাসায়নিক সার শুধু যে মাটির জন্য ক্ষতিকর তা নয়। মাটি ছাড়াও জল, অন্যান্য জীব, এমনকি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর l

হনী সর্কস ট্যাঙ্কার কাছাকাছি চাষির ক্ষেতে গভীর গর্ত করে তাতে ময়লা ডাম্প করে দিয়ে গর্তটি ঢেকে দেওয়া হয় l তিন থেকে ছয় মাস পর ময়লা সারে বদলে যায় l চাষী এই সার নিজের খেতে ব্যবহার করে আর বেশি হলে অন্য চাষীকে বিক্রিও করে দেয় l এই সার ব্যবহারে ফলনে এত তফাত এসেছে যে অনেক চাষী হনী সকর্স ট্যাঙ্কারের চালকদের নির্দিষ্ট কিছু পয়সা দিয়ে নিজের জমিতে ময়লা ডাম্প করার জন্য ডাকে l

এই এলাকায় যতদিন কাজ চলছে সেই সময়ে দু-লক্ষেরও বেশি লোক কাজে যুক্ত রয়েছে আর তার মূল্য গড়ে 57 কোটির থেকেও বেশি, যেটি প্রতি বছরই বেড়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে l

ব্যাঙ্গালুরু শহরের লাগোয়া এলাকায় হাজারেরও বেশি চাষী মানব মল থেকে সার তৈরী করছে, আর তা খেতে প্রয়োগ করে কম খরচে বেশি ফসল তোলায় সফল হচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু চাষী বছরে 15 লক্ষ পর্যন্ত রোজগার করছে। যেখানে ছোট চাষী যার জমী দু-একরেরও কম সে অতিরিক্ত আয়ের জন্য অন্যের খেত লিজ নিয়ে চাষ করছে।

অন্যদিকে ব্যাঙ্গালুরু বা গ্রামীন এলাকার লোকেদের নিজেদের পিট খালি করাতে কম খরচ করতে হচ্ছে। যখন হনী সকর্স ট্যাঙ্কার কম ছিলো তখন একটা পিট খালি করাতে 15 শো টাকা পর্যন্ত খরচা হয়ে যেত। কিন্তু বেশি ট্যাঙ্কার আসার পর 800 থেকে 1000 টাকার মধ্যেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সেকেণ্ড হ্যান্ড ট্যাঙ্কের ব্যবহারেরও এক লাভজনক বিকল্প পাওয়া গেছে। মোট ও নিয়মিত রোজগারের জন্য ট্রাক মালিক পুরোনো ট্রাকটি হনী সকর্স ট্যাঙ্কের সঙ্গে বদলে লাভজনক রোজগার করছে।

সতত স্বচ্ছতা প্রণালী


আসলে সেপ্টিক ট্যাঙ্কের ময়লা ডাম্প করার যে পক্রিয়াটি শুরু হয়েছে, তা বিগত কয়েক বছরে - পরিষ্কার থেকে ডাম্প করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি একটি শৃঙ্খলার রূপ নিয়েছে। যার দরুণ নোংরা পরিস্কার করার পুরোনো পদ্ধতির থেকে কিছুটা কম খরচে নোংরা পরিস্কার হওয়া সম্ভব হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় না অতিরিক্ত জায়গা বা কোন ডাম্পিং গ্রাউণ্ডের ব্যবহার হয়, না কোথাকারও মাটি, নালা, নদী বা ভূ-জল দূষিত হয়। এর বদলে চাষী উপযুক্ত সার পাচ্ছে ও সে তার জমিতে কম খরচায় বেশি ফসল ফলাতে পারছে।

বাড়তি রোজগারও আছে। সেই সঙ্গে হনী সকর্স ট্যাঙ্কারের মালিকাদেরও নিয়মিত আয় হচ্ছে। আর এটি চালাচ্ছে যে ড্রাইভার এবং হেল্পার তাদেরও রোজগার হচ্ছে। তাই ট্যাঙ্কার মালিক ছাড়াও ছোট ছোট কোম্পানিগুলিও একের অতিরিক্ত ট্যাঙ্কার নিয়ে বাজারে এসে পড়েছে।

নিয়ম ও নজরদারী না থাকলে বিপদ-


.সাধারণভাবে দেখা যায় যে ময়লা পুরোপুরি সারে পরিণত হলেই কৃষক তা সার হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এটাও দেখা যায় যে কেউ কেউ তরল অবস্থাতেই খোলা কেয়ারিতেই এর ব্যবহার করছে, যেটা নাকি যারা কাজ করে ও যেটা উত্পাদন হচ্ছে সেটা যারা ব্যবহার করছে তাদের উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্যই খুব ক্ষতিকর।

যে মজদুরদের দিয়ে এই নোংরা ঢালানো হয় তাদের পায়ে ও হাতের তালুতে ঘা হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এর থেকে কলেরা, ডাইরিয়া ও অনান্য সংক্রামিত রোগও হতে পারে। সব্জি ও ফলের ব্যবহারের মাধ্যমে সংক্রামক শরীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তরল ময়লা সোজাসুজি খেতে ব্যবহার করলে ভূজল দূষিত হতে পারে। আর আশপাশের যারা এই ভূ-জল ব্যবহার করবে তারা এর শিকার হতে পারে। কিন্তু সরকার যদি হস্তক্ষেপ করে ও এই পুরো প্রণালিটিকে ব্যবস্থাসম্মত ও নিয়মিত করে দেয় তা হলে আর সমস্যা থাকে না। এর জন্য উচিত নিয়ম ও নির্দেশনামা তৈরী, সঙ্গে যদি নজরদারী থাকে তাহলে স্বচ্ছতার জন্য এর থেকে ভাল বিকল্প আর কিছু হতে পারে না।

হনী সকর্স-এর সঞ্চালকদের পুরো পক্রিয়াটি শক্ত আইনের বাঁধনে বাঁধতে হবে। আর ময়লা বার করা থেকে শুরু করে তা ডাম্প করা অথবা তা সারে পরিণত হওয়া পর্যন্ত পুরো পক্রিয়াটি নিয়ম অথবা দেখাশোনার পরিমণ্ডলে হওয়া প্রয়োজন। যাতে করে এর থেকে কেউ কোন প্রকার অভাবনীয় রোজগার না করে।

আগামী বছরগুলিতে সিঙ্গল পিট শৌচালয়ের সংখ্যা পুরো দেশজুড়ে প্রতি বছর বাড়বে। এমন অবস্থায় সেগুলি পরিষ্কার করা ও ডাম্প করার একটি সুরক্ষিত পরিবেশ অনুকূল সুচিন্তিত প্রক্রিয়া আগের থেকেই তৈরী হওয়া জরুরী। প্রয়োজন এই কাজে যুক্ত লোকেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনা, তাদের সঙ্গে কাজের উপযুক্ত জিনিসপত্র থাকা প্রয়োজন। আর প্রয়োজন - কর্পোরেশন, যারা নিকাশী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এই সকলের সঙ্গে স্বচ্ছ সংযোগ।

ব্যঙ্গালুরুতে কাজ করছে যে হনী সকর্সগুলি তাদের কাজের মান্যতা দেওয়া উচিত ব্যঙ্গালুরু জল সরবরাহ ব্যবস্থা ও নিকাশী ব্যবস্থায় যাঁরা রয়েছেন তাদেরl এতে করে স্বচ্ছতার জন্য যে ধনরাশি খরচ হবে তা বেশিরভাগ লোকে ব্যবহার করতে পারবেl কতগুলি শৌচালয় নিকাশী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যতগুলি সিঙ্গল পিট আর কতগুলি সেপ্টিক ট্যাংক রয়েছেl এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিল হলেই এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে কতগুলি হনী সকর্স ট্যাংকারের প্রয়োজন রয়েছেl সেই সঙ্গে যদি এটা দেখা যায় যে নিকাশী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয় এমন শৌচালয়ের সংখ্যা বেশি, তাহলে নিকাশী ব্যবস্থায় খরচ করার বদলে হনী সকর্স ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থার উন্নতি করার জন্য খরচ করা যেতে পারেl এতে নিকাশী ব্যবস্থার বিকাশের চেয়ে কম খরচে বেশি ভাল কাজ পাওয়া যাবেl

.অবশ্যই হনি সকর্স ট্যাংকার স্বচ্ছতা অভিযান ও তার জন্য যে খরচ তার সমাধানে একটি প্রভাবী উপায় কিন্তু সম্পূর্ণ সুরক্ষিত মডেলরূপে এর বিকাশ করার প্রয়োজন রয়েছেl এ কথাও ঠিক এরজন্য পেশাদার লোকও নিয়ে আসতে হবেl যাতে করে ট্যাঙ্ক খালি করার সময় এটা সুনিশ্চিত হয় যে - কাজ যেন সঠিক পদ্ধতিতে, কোন মাধ্যমকে দূষিত না করে সম্পন্ন হয়l ময়লার ডাম্পিং যেন মাটিতে হয় ও সত্ত্বর হয়। ময়লা ডাম্প করার সময় ভূজল যেন দূষিত না হয় এটাও নিশ্চিত করতে হবেl

কাজ করবে যে সমস্ত লোকেরা তাদের কাজের উপকরণ ও তাদের নিজেদের স্বচ্ছতাও দৃষ্টান্ত স্বরূপ হতে হবেl কাঁচা খাওয়া হয় যে সমস্ত সব্জি সেই খেতে পরিশোধিত মানব মলের সার ব্যবহার না করার নির্দেশ দিতে হবেl আর এই নির্দেশ যেন অবশ্যই পালিত হয়l

সারের ব্যবস্থার ও ফসল কাটার মধ্যে কমসে কম এক মাসের তফাত থাকতে হবে, যাতে করে এটি সুনিশ্চিত হতে পারে যে ওতে আর কোন প্রকার সংক্রামন নেইl সেই সঙ্গে উপভোক্তাদেরও এই নির্দেশ দিতে হবে যে তারা যেন সাফ-সুতরা করে ফল-সব্জি ব্যবহার করেl

বৃষ্টি জল সংগ্রহ ও পরিবেশ বিষয় সংক্রান্ত কাজ করে বায়োম এনভারমেণ্টাল সল্যুশন্স (BAOIM ENVIRONMENTAL SALUTION)- প্রাইভেট লিমিটেড-এর উপদেষ্টা বিশ্বনাথ শ্রীকন্টট্যহ, হনী সকর্স ট্যাঙ্কার সঞ্চালনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তার সঙ্গে কথাবার্তার ওপর আধারিত সাক্ষাতকারের কিছু অংশ-

(1) হনী সকর্স কি?


এটা কোন বড় পরিকল্পনা বা অভিযান নয়, এটি স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্ত একটি ভাল বিকল্পl ব্যক্তিগত ও সরকারী দুই স্তরেই এখন ব্যাঙ্গালুরু ও কর্ণাটকে অনেকগুলি হনী সকর্স ট্যাঙ্কার কাজ করছেl এটি ট্যাঙ্কারের মতই হয় যার সাহায্যে সিঙ্গল পিট বা সেপ্টিক ট্যাঙ্কের চেম্বার ভরে গেলে খালি করা যায়l

শহরাঞ্চল বা গ্রাম্য এলাকা যেখানেরই শৌচালয়গুলি নিকাশী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয় সেগুলি খালি করাতেই হনী সকর্সের গুরুত্বl এর ভালর দিকটি হল কম খরচে মাটি, ভূ-জল অথবা বয়ে চলা জল কোন স্রোতকেই দূষিত না করে স্বচ্ছতার বিকাশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াl

(2) কর্ণাটকে হনী সকার্স কখন থেকে ব্যবহার হচ্ছে আর ব্যাঙ্গালুরুতে এর প্রয়োগে কোন তফাত দেখা যাচ্ছে কি?


বিগত সাত-আট বছর আমরা এখানে এই ট্যাঙ্কারের ব্যবহার করছি, তফাত তো অনেকই হয়েছেl একটা দুটো অপবাদ বাদ দিলে ব্যাঙ্গালুরুতে এখন কাউকে হাতে ময়লা পারিষ্কার করাতে হয় নাl এমনিতেও সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে হাতে ময়লা পরিষ্কার করার প্রথাটি পুরোপুরি বন্ধ করার। অন্যদিকে সেপ্টিক ট্যাঙ্ক ও সিঙ্গল পিট-এর মতো শৌচালয় তৈরী হওয়ায় ‘এটা’ তখনই হতে পারে যখন হনী সকর্সের মতো টেকনিক বা প্রণালী ব্যবহার করে ট্যাঙ্কগুলি পরিষ্কার করা যাবেl

(3)কর্ণাটক ছাড়া আর কোন রাজ্যে এর ব্যবহার হচ্ছে?


.বেশ কয়েকটি রাজ্যে খুবই সাফল্যের সঙ্গ হনী সকর্স ট্যাঙ্কার ব্যবহৃত হচ্ছেl যেমন- ওড়িসা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলাঙ্গানা প্রভৃতি রাজ্যেl যদিও উত্তর ভারতে কোন রাজ্যে এর ব্যবহার এখনও শুরু হয়নি তবে ধীরে ধীরে ছড়াচ্ছেl যেমন দিল্লীতে কিছু হনী সর্কস ট্যাঙ্কার কাজ করছে, কিন্তু ওখানে ওগুলির ডাম্পিং খেতে হচ্ছে না, কেননা কৃষকরা এই বিষয়ে কিছু জানে না।

আগামী দিনে এই ব্যবস্থার অবশ্যই বিস্তার হবে কেননা ময়লা পরিষ্কারের ব্যবস্থাপনায় এর থেকে সস্তা ও পরিবেশ অনুসারী আর কোন বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের যোজনা অনুসারে প্রতি ঘরে শৌচালয় আবশ্যিক করা হয়েছে l কিন্তু গ্রামীন এলাকা বা শহুরে গ্রামীন এলাকায় সব শৌচালয়ই সিঙ্গল পিট বা স্যাপ্টিক ট্যাঙ্কই হচ্ছে, যেগুলি 2-4 বছরের মধ্যে ভর্তী হয়ে যাবে l তখন এগুলি খালি করা বা পরিষ্কার করার প্রয়োজন পড়বে আর কাউকে না কাউকে পরিষ্কারের কাজে লাগাতে হবে l

অন্যদিকে হাতে অথবা কোন ব্যক্তি দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করানো অ-সংবিধানিক l এমত অবস্থায় হনী সকর্স ট্যাঙ্কারের মতো উপায়ের কথা সকল সরকারকেই গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবেl এছাড়া সেপ্টিক ট্যাঙ্কগুলি পরিষ্কার করার যে টেকনিক অথবা মেসিন পশ্চিমী দেশগুলিতে প্রচলিত রয়েছে সেগুলি অনেক বেশি খরচ সাপেক্ষ l হনী সকর্স ট্যাঙ্কার যত কম খরচায় হয় অন্য কোন প্রক্রিয়া বা টেকনিকে তা সম্ভব নয়। মনে হয় আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রতিটি জেলা ও গ্রামেই হনী সর্কাস ট্যাঙ্কারের প্রয়োজন পড়বে l

(4) সাধারণভাবে এতে কত খরচ হয়?


যে কোনো সেকেণ্ড হ্যণ্ড ট্রাককে হনী সকর্স ট্যাঙ্কারে পাল্টে নিতে 5 থেকে 8 লাখ টাকা খরচা হবে l আর একটি সিঙ্গল পিট খালি করাতে এই ট্যাঙ্কারের ভাড়া পড়ে 800 থেকে 1000 টাকা l একটি ট্যাঙ্কারের ক্ষমতা 4000 লিটার l সাধারনভাবে 4 বছরে একবার সিঙ্গল পিট বা সেপ্টিক ট্যাংঙ্ক খালি করাতে হয় l

এর আর্থিক দিকটি দেখলে দেখা যায় বৈকল্পিক রোজগার দিতে পারে l অনেক ট্যাঙ্কারের মালিক নিজেই ড্রাইভার, আর নিজে যদি ড্রাইভার নাও হয় তাহলেও প্রতি ট্যাঙ্কার একজন ড্রাইভার ও একজন হেল্পারের প্রয়োজন হয়, যাদের প্রতি মাসে দশ হাজার ও ছয় হাজার টাকা দিতে হয় l আটশো থেকে এক হাজার টাকায় প্রতি ট্যাঙ্ক খালি করতে পাওয়া যায় আর প্রতি দিন প্রায় চার থেকে পাঁচটি ট্যাঙ্ক খালি করার কাজ পাওয়া যায় l এভাবেই মালিক, ড্রাইভার আর হেল্পারের রোজগার হয় l

(5) গ্রামীন জীবনের স্বচ্ছতাতে হনী সকর্স ট্যংকারের কি ভূমিকা হতে পারে?


অনেক বড় বা ছোট চাষীও ব্যাঙ্গালুরুতে হনী সকর্স ট্যাঙ্কার ব্যাবসায়ীকভাবে ব্যবহার করছে l অনেকেই ট্যাঙ্কার ভাড়া করে ময়লা কিনে নিজের খেতে সার তৈরী করছে, এর ব্যবহারে রাসায়নিক সারের থেকে কম খরচায় বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে l

সাধারনভাবে পতিত জমিতে বা যারা কলার চাষ করেন তারা এই সারের ব্যবহারে ভাল ফল পেয়েছেন l তাছাড়াও ধান বা নারকেলের খেতেও এর ব্যবহারে খরচ কম ও উত্পাদন বেশি পাওয়া যাচ্ছে l নিজের ব্যবহারের অতিরিক্ত সার থাকলে চাষি তা বিক্রিও করেl তাতেও রোজগার হয় l আর নিজে ট্যাঙ্কার মালিক হলে তাতে ময়লা চালিয়ে অতিরিক্ত রোজগার হয়ে থাকে l

(6) কর্ণাটক সরকার-স্বচ্ছতার জন্য কিভাবে এই ট্যাঙ্কারের ব্যবহার করছে ?


কর্ণাটক সরকার প্রতি তালুকের গ্রামপঞ্চায়েতের কাজের জন্য একটি হনী সকর্স ট্যাঙ্কার দিচ্ছে l নির্মল গ্রাম যোজনা প্রকল্পে গ্রামে আশি থেকে নব্বই শতাংশ ঘরে শৌচালয় নির্মান হওয়ার জন্য প্রতি গ্রামে হনী সকর্স ট্যাঙ্কার থাকা অনিবার্য প্রয়োজন l কর্ণাটক ও ব্যাঙ্গালুরুতেও হাতে নোংরা পরিষ্কারের জন্য হিতকর মামলায় কর্ণাটক সরকার কর্ণাটক উচ্চ আদালতকে জবাব দিয়েছে যে রাজ্য সরকার পুরো রাজ্যে যেকোন জায়গায় মেসিন দিয়ে ময়লা পরিস্কার করা সুনিশ্চিত করেছে l কোন মানুষকে এই কাজের জন্য নেওয়া হবে না l

(7)বর্তমানে কর্ণাটকে কতগুলি হনী সকার্স ট্যাঙ্কার চলেছে ?


.ব্যঙ্গালুরুতে ব্যক্তিগত মালিকানার 500 হনী সকর্স ট্যাঙ্কার কাজ করছে। আর সরকারী তরফে 214 শহরে এক-একটি হনী সকর্স ট্যাঙ্কার কাজ করছে l সমস্ত কর্ণাটক জুড়েও ব্যক্তিগত মালিকানার 500-রও বেশি ট্যঙ্কার চলছে l শৌচালয়ের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্যাঙ্কারের চাহিদাও বেড়ে চলেছে কেননা মানব ময়লা পরিস্কার করা যেকোনো শহর বা গ্রামের প্রাথমিক ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে l তাই সরকারকেও ব্যাক্তিগত ট্যাঙ্কার চালকদের সঙ্গে, ট্যাঙ্কারের ছোট ছোট কোম্পানিগুলির সঙ্গে তালমেল বজায় রেখে তাদের সরকারের স্বচ্ছতা প্রাণালীর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। যাতে কোন গোলমাল না হয়। সঙ্গে এটাও দেখতে হবে যেন কেউ কোনভাবেই পরিবেশ দূষিত না করে l

Disqus Comment