একা আসে না বন্যা ও খরা

Submitted by Hindi on Fri, 08/19/2016 - 14:46

আজকে আমরা দুটি বিষয়ের ওপর ও দুটি সমস্যা নিয়ে কিছু কথা বলব। এগুলি হল বন্যা ও খরা। এই দুটি হল জলের স্বভাবের দুই প্রান্ত। বন্যায় চারিদিকে শুধু জল আর জল। অন্যটিতে যেকোন জায়গায় জলের অভাব আর অভাব। যখনই এই দুটি সমস্যার কোন একটি সামনে এসেছে রাজেন্দ্র বাবু হাতের সমস্ত কাজ গৌন মনে করে এগুলিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

আজ থেকে কয়েকশো বছরের পুরোনো ঘটনা, ওই ঘটনাটি যদি সেদিন না ঘটত তাহলে হয়ত আজকে আমরা এখানে একত্র হতে পারতাম না। 1910 সালের কথা, রাজেন্দ্রবাবু তখন কলকাতায় ওকালতি পড়ছেন। সেই সময়ের প্রসিদ্ধ ব্যারিস্টার পরমেশ্বর লাল একদিন ওনাকে ডেকে পাঠান। কয়েকদিন আগেই পরমেশ্বর লাল-এর সঙ্গে গোখলেজী-র দেখা হয়েছিল। কথায় কথায় গোখলেজী ওনাকে বলেছিলেন- উনি ওখানের দু-চার জন কৃতি ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করতে চান। পরমেশ্বর বাবু খুব সহজেই রাজেন্দ্র বাবুর নাম বলেন।

রাজেন্দ্র বাবু গোখলেজীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন বন্ধু শ্রীকৃষ্ণ প্রসাদকে সঙ্গে নিয়ে। এর কিছুদিন আগেই ‘সর্বেটস অফ ইণ্ডিয়া সোসায়টি’ স্থাপিত হয়। গোখলেজী সেই কাজের জন্য সব জায়গাতেই কিছু ভাল যুবকের খোঁজ করছিলেন। তিনি পরমেশ্বর-জীর কাছে জানতে পেরেছিলেন যে এরা খুবই উজ্বল শিক্ষার্থী। ওকালতি সেই সময় এমন একটি পেশা ছিল যা প্রতিষ্ঠা ও পয়সা একই সঙ্গে দুই দিত। এই কাজে সরস্বতী ও লক্ষ্মী যমজ দুই বোনের মতো একসঙ্গে এসে মিলত।

প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কথাবার্তা বলার পর রাজেন্দ্র বাবুকে শেষমেস গোখলেজী বলেন – হাতে পারে তোমার ওকালতি খুব চলবে। অনেক পয়সা তুমি রোজগার করতে পারবে। খুবই আরাম ও বিলাসিতার সঙ্গে দিন কাটাবে। বড় বাড়ি, গাড়ি, ঘোড়া ইত্যাদি দেখনদারীর জিনিস তোমার অনেক হবে। আর যেহেতু তুমি পড়া-শোনায় ভাল তাই এই চাপ তোমার ওপর আরও বেশি থাকবে। এরপর গেখলেজী কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। কিছুক্ষনের এই নীরবতায় রাজেন্দ্র বাবুর মনেও না জানি কি উথাল-পাথাল চলছিল। আবার তিনি বলতে শুরু করেন - আমার কাছেও এই প্রশ্ন এসেছিল, এই বয়সেই। আমিও এক সাধারণ গরীব ঘরের ছেলে ছিলাম। আমার কাছে ঘরের লোকের অনেক বড় বড় আশা ছিল। ওরা ভেবেছিল আমি লিখে-পড়ে প্রস্তুত হয়ে অনেক পয়সা রোজগার করব, সকলকে সুখী করতে পারব। কিন্তু আমি তাদের সব আশায় জল ঢেলে দিয়ে দেশ সেবার ব্রত গ্রহণ করলাম। আমার ভাইয়ের এত খারাপ লেগেছিল যে কিছুদিন পর্যন্ত সে আমার সঙ্গে কথাই বলেনি। তবে বিশ্বাস কর শেষ পর্যন্ত তুমি মানুষের কাছে পূজিত হবে।

মনে হয় গোখলেজীর মুখ থেকে সেদিন আকাশবানী হয়েছিল।

পরের কাহিনী বেশ লম্বা। কিছুদিন রাজেন্দ্র বাবুর মনে যে সংঘর্ষ চলছিল, আর ঘরে যে পরিস্থিতি তৈরী হল - কান্না-কাটি, ছেলে সাধু হয়ে যাবে এই ভয়, সে সবের কাহিনীও লম্বা।

এই ঘটনা যদি না ঘটতো তাহলে আজকে আকাশবানীর এই অনুষ্ঠানে রাজেন্দ্র প্রসাদ-জীর পূণ্য স্মৃতিতে, তাঁকে প্রনাম করার সৌভাগ্য আমাদের হোত না।

এই গল্প থেকে আমরা যেন এটা মনে না করি যে পরের দিনই তিনি সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে দেশ সেবায় লেগে পড়েছিলেন। গোখলেজী নিজে খুবই উদার ছিলেন। তিনি সেদিন বলেছিলেন - এখুনি উত্তর দিতে হবে না। এটা গভীর প্রশ্ন। আমরা আরও একবার দেখা করব, তখন তুমি নিজের রায় জানিও।

পরের দশ-বারো দিনের বর্ণনা করা যাবে না। রাজেন্দ্র বাবুর সঙ্গেই তাঁর ভাই থাকতেন। তার ব্যবহারে যে পরিবর্তন হচ্ছিল তা তিনি দেখতেই পাচ্ছিলেন। রাজেন্দ্রবাবু কোর্ট যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি না ভাল করে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন, না কারো সঙ্গে দেখা সাক্ষাত্ করছিলেন। তারপর একদিন সাহস করে ভাইকে একটি লম্বা চিঠি লিখে সব ছেড়ে যাবার অনুমতি চাইলেন। চিঠি তো লিখলেন বটে কিন্তু সোজাসুজি ওনাকে দিতে পারলেন না। তাই একদিন সন্ধ্যেবেলা ভাই যখন বেড়াতে বেরিয়েছে, তখন চিঠিটি তার বিছানায় রেখে নিজেও বেরিয়ে পড়লেন।

ভাই ফিরে এসে চিঠি দেখলেন ও রাজেন্দ্র বাবুকে খুজতে লাগলেন। বাইরে যখন তাকে পেয়ে গেলেন, জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন। রাজেন্দ্র বাবুও নিজেকে সামলাতে পারলেন না। দুজনে মিলে ফুঁপিয়ে পুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। বেশি কথা বলার হিম্মত ছিল না দুজনের মধ্যে কারোরই, তবুও ঠিক হল কলকাতা থেকে গ্রামে যেতে হবে। মা, কাকী ও বোনকে সব খুলে বলতে হবে।

রাজেন্দ্র বাবুর মনে হয়েছিল দেশ প্রেম ও ঘরের প্রেমে, ঘরের প্রেমই ভারী। খুব সহজে তিনি এই প্রেম বন্ধন কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। গোখলেজী তখনও সেখানেই ছিলেন। রাজেন্দ্র বাবু একবার তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। সমস্ত পরিস্থিতি তাঁকে খুলে বললেন।গোখলেজীও তাঁকে পাবার আশা ছেড়ে দেন।

গ্রাম পৌঁছানোর গল্প তো আরও বিচিত্র। চারদিকে কান্না-কাটি। যেটুকু সাহস বেঁচেছিল তাও ভেঙ্গে পড়ল। উনি যেমন ছিলেন তেমনই হয়ে গেলেন। আবার মনে হতে লাগল জীবন পুরোনো রাস্তাতেই এসে পড়েছে।

কিন্তু সেদিন তো আকাশবানী হয়েছিল। তা মিথ্যা হয় কি করে । সেই ওকালতিই ওনাকে আগামী দিনে পাঁচ-ছয় বছর পর চম্পারনে নিয়ে যায়। সেখানে ওনার জীবনে নীল রঙ্গের প্রলেপ পড়ে। নীল রং মানে গান্ধীজীর চম্পারন আন্দোলনের রং। এই রং এমনই গাঢ় ছিল যে জীবনে আর কোনদিনই তা ধুয়ে যায়নি।

গান্ধী রঙে রঙিন হয়ে রাজেন্দ্র বাবু কোন পদ পাবার ইচ্ছে না করেই দেশময় ঘুরতে লাগলেন আর সার্বজনিক জীবনের ক্ষেত্রে যত রকমের সমস্যা আসে, তার সমাধানে পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে শরীরও অর্পন করলেন। প্রয়োজনে অর্থ জোগাড় ও বিতরণ করতে থাকলেন।

সেই সমস্যাগুলির সেই বিষয়গুলির গণনা করা কঠিন কাজ। আজকে আমরা দুটি বিষয়ের ওপর ও দুটি সমস্যা নিয়ে কিছু কথা বলব। এগুলি হল বন্যা ও খরা। এই দুটি হল জলের স্বভাবের দুই প্রান্ত। বন্যায় চারিদিকে শুধু জল আর জল। অন্যটিতে যেকোন জায়গায় জলের অভাব আর অভাব। যখনই এই দুটি সমস্যার কোন একটি সামনে এসেছে রাজেন্দ্র বাবু হাতের সমস্ত কাজ গৌন মনে করে এগুলিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

এই বিষয়ে বিস্তারে যাওয়ার আগে আমরা আজকের বিষয়টি আর একবার স্মরণ করে নি।

পাঁচটি রাজ্যে ভোট চলছে। আজকাল আমরা দেখছি যদি কাউকে কোন দল ভোট প্রর্থী না করে তো রেগে-মেগে সে সেই দল ছেড়ে দেয়। কেউ নিরাশ হয়ে আত্মহত্যা করে। কেউ আবার সেই দল সম্পর্কে এমন সব অপবাদ ছড়ায়, সেই দলের এত দোষ, এত বদ গুনের হিসেব দেয় যে যারা শোনে-পড়ে তাদের আশ্চর্য লাগে - আরে এতদিন পর্যন্ত লোকটা এরকম একটা দলে কি করে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিল। এর পিছনে এরকম একটা ধারণা তৈরী হয়েছে - যদি আমি নিজে কোন পদ না পাই তাহলে আমি কিভাবে দেশের সেবা করব।

এই বিচিত্র ধারণাটির পালন পোশন ও এগিয়ে নিয়ে যেতে সমস্ত দলের - তাদের সদস্য ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি আগে-পিছে সকলের মধ্যে অদ্ভুত সহমত দেখতে পাওয়া যায়। এরকম অবস্থায় রাজেন্দ্র বাবুর কিছু বিচার আমাদের আজকে আর একবার ফিরে দেখে নিতে হবে।

এই প্রসঙ্গটি আজ থেকে প্রায় 93 বছর আগের। সময়টা সেই নভেম্বর মাসই। কাউন্সিল ও এসেম্বলি ইলেকসনের সময়। ছোট ছোট কথায় তখন বড় বড় নামীদের মধ্যেও শুধু মতভেদই নয়, মতভেদের কদর্য বিষগুলি উঠে আসছিল। এইরকম ভীতের ওপর, দুর্বল ভীতের ওপরই স্বাধীনতা পরবর্তী দলগত রাজনীতির পরিবেশ টিকে ছিল না কি?

রাজেন্দ্রবাবু সেই সময় নিজের মন শক্ত করে ‘দেশ’ নামক খবরের কাগজে একটি প্রতিবেদন লেখেন। লেখাটি তাঁর সঙ্গী সাথিদের পছন্দ হয়নি। বক্তব্যটি দেখে নেওয়া দরকার - যখন দেশের জায়গায় আমরা কোন জাতি-বিশেষ, ধর্ম-বিশেষ অথবা দেশ- বিশেষকে বসাতে চাই তখন এই রকম ঝগড়া না হয়ে যায় না।

দেশ সেবকদের জন্য একটিই রাস্তা। অন্ততপক্ষে যতদিন পর্যন্ত না দেশ সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রাপ্ত হচ্ছে, ততক্ষণ তারা কোন স্থান, পদ বা প্রতিষ্ঠার লোভ না করে শুধুমাত্র দেশ সেবাকেই ধ্যান জ্ঞান করে কাজ করে যায়।

এই প্রতিবেদনে তিনি আরও লেখেন- সেবকদের জন্য সব সময় জায়গা খালি পড়ে রয়েছে। পদ পার্থীদের ভীড় সেবার জন্য নয়। ভীড় তো সেবার ফল ভাগে ব্যস্ত থাকে। যার লক্ষ্য শুধু সেবা, সেবার ফল নয়, তাকে এই ধাক্কা-ধাক্কিতে যাওয়া ও ওই হোড়ে পড়ার কোন প্রয়োজন নেই।

মাটিতে এদিকে এইসব হচ্ছিল আর ওদিকে আকাশ থেকেও এক ভয়ানক বিপত্তি নেমে এলো। আশ্বিন মাসে বিহারের ছাপরা জেলাতে একদিন ঘনঘোর বর্ষা হল। চব্বিশ ঘণ্টায় প্রায় ছত্রিশ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়। ফল দাঁড়াল পুরো জেলা ভয়ানক বন্যায় ডুবে গেল। সেখানের সরকারী কর্মচারীরা এই সমস্যায় জনগনের প্রতি যথেষ্ট উদাসীনতা ও উপেক্ষার ভাব দেখাল। এখনকার মত তখন এত বিভিন্ন প্রকার খবরের কাগজ, নিরর্থক খবর তৈরী করে চলা এত প্রকার টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। তবুও যে অল্পকটা খবরের কাগজ বেরোতো সকলেই লিখেছিলো - যখন ঘর-বাড়ি, খেত-খামার, মানুষ, গ্রাম জলে ডুবছে, মানুষ ত্রাহি ত্রাহি চিত্কার করছে, এমত অবস্থাতেও কিছু-আধিকারীক কর্মচারী নৌকায় চেপে ‘ঝিরঝিরী’ খেলছিল।

ঝিরঝিরি একপ্রকার লুকোচুরি খেলা। ডুবন্ত লোকেদের এমনকি মহিলা বা শিশুদেরও কোন প্রকার বাঁচাবার চেষ্টা এই আধিকারীকরা করেনি। মানুষ ডুবতে থাকে আর প্রশাসন লুকোচুরি খেলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে একজন ইংরেজ বিচারক ও একজন ভারতীয় উপ-বিচারক মানুষদের খুব সাহায্য করেন। রাজেন্দ্র বাবুর মত শালীন মানুষও আত্মকথায় সেই দিনের বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন - কালেক্টর, পুলিশ অফিসাররা বা ডেপুটি মেজিস্ট্রেট কেউই নাবালক থেকে সাবালক (দশ সে মস) হতে পারেননি। সরকারের এই রকম ঘৃনিত ব্যবহারে পরের দিন বন্যার জলের মাঝেই ছাপরায় এক সার্বজনিক সভা হয়। সেই সভায় সরাসরি সরকারের নিন্দা করা হয়। আর যারা সাহায্য করেছিলেন তাদের প্রচুর প্রশংসা করা হয় ও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

দেহাতের (গ্রামের) হাল ছিল আরও খারাপ। সেই সময় ছাপরা থেকে মশকর গামী যে রেল লাইন, সেই লাইনের জন্য বন্যার জল সামনে বয়ে চলার বদলে একটা বড় এরিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ওপর পিছন থেকে বয়ে আসা জল, জমে থাকা জল স্তরকে বাড়িয়েই চলেছিল। এর থেকে বাঁচার একটাই রাস্তা মানুষ দেখতে পেয়েছিল - রেল লাইন কেটে ফেলে বেড়ে যাওয়া জলস্তরকে সামনে বয়ে যেতে দেওয়া। যাতে সেখানে কিছু শ্বাস নেওয়া যায়। কিন্তু কালেক্টর তাতে কর্নপাত করলেন না। রেল লাইনে সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে দেওয়া হল, এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী হয়ে রইল। সীবানের কাছে এরকমই একটা জায়গায় প্রচুর জল জমে যায়। গ্রামের লোকেরা ঠিক করে নিজেরাই রেল লাইন কেটে ফেলবে। কিন্তু সশস্ত্র পুলিশ পাহারায় দেখে তাদের সাহস হল না।

রাজেন্দ্র বাবু এর বর্ণনায় লিখছেন - মানুষ কষ্ট সহ্য করতে লাগল, কিন্তু যখন কষ্ট সহ্যের সীমা পার করে গেল তখন দু-চার জন মানুষ কাঁধে কুড়াল নিয়ে জলে সাঁতার দিয়ে রেল লাইনের দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশ ওদের দেখে ধমকায়। উত্তরে তারা বলে - জলে ডুবে তো আমরা মরছিই আর তোমরা লাইন কাটতে দিচ্ছো না। এতদিন আমরা সহ্য করে নিয়েছি। এখন আর সহ্য করতে পারছি না। মরণ দু’দিকেই। জলে ডুবে মর, নাহয় তোমাদের গুলি খেয়ে। আমরা ঠিক করেছি গুলি খেয়ে মরাই ভাল। আমরা লাইন কাটব, তোমার গুলি চালাও।

বয়ে চলা জলে সাঁতার দিয়ে এই সাহসী লোকেরা বাঁধের পাড়ের মতো উচুঁ হয়ে থাকা রেল লাইনে কোদাল চালাতে থাকে। পুলিসের সাহস হয় না গুলি চালানোর। লাইন সামান্যই কাটা হয়েছিল এর মধ্যে বেড়ে ওঠা জলের শক্তি লোকেদের সঙ্কল্পের সঙ্গে মিলে লাইন ভড়াক করে ভেঙ্গে ফেলে আর বন্যার জল তাকে খড়-কুটোর মতো না জানি কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পিছনের গ্রামগুলি পুরোপুরি ডোবে না, বেঁচে যায়। পরে রিপোর্ট লেখার সময় অবশ্য পুলিশের তরফ থেকে লেখা হয়েছিল - বন্যার জলের চাপেই রেল লাইন ভেঙ্গে যায়।

এই পুরো বিপর্যয়ের সময়টিতে রাজেন্দ্র বাবু আর তিনি যে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেই দলের অসংখ্য কর্মী দিন রাত কাজ করেন। ছপরার ওই বন্যায় একজন বড় অধিকারীক একথা পর্যন্ত বলেন - সব অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে কেন এসেছো, যাও, যাও গান্ধীর কাছে যাও। গান্ধীর মানে কংগ্রেসের লোক, আর তাতে তো রাজেন্দ্র বাবুও ছিলেন।

এই সব দুঃখপ্রদ প্রসঙ্গ থেকে রাজেন্দ্র বাবু এটা দেখেন যে বন্যা ও খরা একা আসে না। এর আগে সমাজে এমন অনেক কিছু হয় যা হওয়া উচিত নয়। আর এ সবই কখনো খুব ধীরে ধীরে তো কখনও খুব দ্রুত হয়। গতি যেমনই হোক সমাজের নীতি নির্ধারকদের, সঞ্চালকদের ও নেতৃস্থানীয় লোকেদের ধ্যান এই দিকে পৌঁছায় না আর বন্যা বা খরা সামনে এসে উপস্থিত হয়।

খারাপ কাজের বন্যা হয়। জলের স্বভাব না বুঝে বিকাশের নামে বিভিন্ন প্রকার কাজ হতে থাকে। এটা কোন একটা নির্দিষ্ট সময়ের কথা নয়। দুর্ভাগ্যক্রমে সব সময়ই এইরকম ভুল ফিরে ফিরে হয়। এক দিকে প্রকৃতি, পরিবেশ বিরোধী কাজের বন্যা চলে তো অন্য দিকে ভাল কাজের খরা হয়। ভাল বিচার তথা চিন্তাধারার খরা হয়।

রাজেন্দ্র বাবুর সময়কালে ওই এলাকায় ইংরেজদের ব্যবসায়ীক নীতি বা দুর্নীতির কারণে তড়ি-ঘড়ি করে রেল লাইন পাতা হয়েছিল। রেল লাইন তাদের ব্যবসা বা রাজত্বের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিলো। তাই আশপাশের জমি থেকে উঁচুতে উঠিয়ে লাইন তৈরী করা জরুরী ছিল। আজ মানুষ এই কথা ভুলে গেছে যে কখনও আমাদের দেশে জালের মতো যে রেল লাইন পাতা হয়েছিলো তা ইংরেজ সরকারের হাতে ছিলো না। কিছু দেশীয় ইংরেজ কোম্পানির পকেটেই ছিলো।

রাজেন্দ্র বাবু আত্মকথায় এই দুঃখদায়ক ঘটনা প্রসঙ্গে লিখেছেন - রেল লাইনের জন্য বন্যার ভয়ঙ্করতা বেড়ে যায়। আমাদের রাজ্যে বিগত ত্রিশ বছরে যতগুলি বড় ও ভয়ঙ্কর বন্যা হয়েছে সবগুলি সম্পর্কে আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি এ ব্যাপারে দৃঢ় নিশ্চয় যে রেল লাইন ও ডিস্ট্রিক কোর্ট তথা দ্বিতীয় উঁচু রাস্তা বন্যার প্রধান কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। যদি এগুলিতে প্রচুর পরিমানে চওড়া চওড়া পুল তৈরী করে দেওয়া হতো তাহলে অবস্থা এরকম হোত না। ... কিন্তু এখানে তো রেল কোম্পানি- গুলির লাভের ওপরই বেশি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পুল তৈরী করতে তাদের বাধ্য করা যেতো না, লাইন কাটা তো বহু দূরের কথা। ... বী. এন. ডব্লু. এই বিষয়ে খুবই কৃপনতা করেছে। যদিও এখন সেখানে বেশ কিছু পুল হয়েছে তবুও এখনও এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে পুলের প্রয়োজন আছে। ওরা যে পুল তৈরী করছে তা জনতার কষ্ট দূর করার জন্য নয়। নিজেদের লাভের দিকে লক্ষ্য রেখেই করা হয়েছে। কেননা যতক্ষণ পর্যন্ত শুধু জনতার কষ্টের কথা ছিল ততক্ষণ কোন কথায় কর্ণপাত করেনি। কিন্তু যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাইন এমন ভাঙ্গল যে মাসের পর মাস রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেল তখন বাধ্য হয়েই পুল করতে হল।

1937 সাল আসতে আসতে ওই অতবড় ভূ-খণ্ডের এমন অবস্থা হল যে বিহারের রাজ্যপাল সেই বছরের বন্যার সমস্যার উপর পাটনায় এক বড়সড় সম্মেলনের ডাক দেন। এতে যোগদান করার জন্য রাজেন্দ্র বাবুকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

রাজেন্দ্র বাবু হঠাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তিনি সেই সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন নি। তবে সে বিষয়ে একটি বড় প্রতিবেদন লিখে পাঠিয়ে ছিলেন। প্রতিবেদনটি সেদিনের সম্মেলনে শ্রী অনুগ্রহ নারায়ণ সিন্হাজী পড়ে শোনান।

বর্ষা তো প্রতি বছরই হয়। পুরো দেশেই হয়। কোথাও কম, কোথাও বেশি, কোথাও খুব বেশি। কিন্তু এই বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী মানুষজন নিজেদের বর্ষার অভিজ্ঞতা থেকে এই কম, বেশি বর্ষায় নিজের জীবন কিভাবে সাজাবেন তা সঠিকভাবে শিখে নিয়েছিলো।

একদিকে রয়েছে জয়সলমের, যেখানে বর্ষার পরিসংখ্যান ইঞ্চিতে বললে পুরো বর্ষায় ছয় ইঞ্চির উপরে যাবে না। অন্য দিকে আমরা দেখছি বিহারের ছাপরাতে একদিনে 36 ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছিল। আবার উত্তর পূর্বে আমাদের একটি রাজ্যের নামই রাখা হয়েছে মেঘের ঘর। এই সমস্ত জায়গার মানুষেরাই পূর্বপুরুষের অভিজ্ঞতায় নিজেদের আশপাশ, জলবায়ু, হাওয়া, গাছ, চারা এমনকি সেখানের পশুদের সঙ্গে পর্যন্ত আত্মিক সম্বন্ধ তৈরী করে ফেলেছিলো।

আজ আমরা দেখছি জল নীতি তৈরী হচ্ছে। আগে এরকম হোত না। সমাজ নিজেদের একটি জলদর্শন তৈরী করত আর তা কাগজে না ছেপে নিজেদের হৃদয়ে এঁকে নিত। মানুষের জীবনের রীতে পরিণত হত তা, আর খুব সহজে এই রীত ভেঙ্গে পড়ত না। সরকারের আসা যাওয়া সাথে সাথে জননীতি তৈরী হয় বা ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু জল দর্শন পাল্টায় না। এই রীত থেকেই সেই জায়গার ফসল সেখানের কৃষক সমাজ বেছে নেয়। সেচের জন্য নিজের সাধন জোগাড় করে নেয়।

এই যেমন বিহারের প্রতিবেদনে আমরা দেখলাম ইংরেজরা সেই এলাকার ভূ-প্রকৃতি ভালোভাবে না বুঝেই রেলের লাইন খুব উঁচু করে পাতল এবং গঙ্গা ও অন্যান্য নদীর বয়ে চলার বিশাল পথকে জায়গায় জায়গায় আটকে দিল। এই বিশাল ভূ-ভাগে জল বাধা না পেয়ে কিভাবে আসা-যাওয়া করবে তার সমুচিত ব্যবস্থার কথা ভাবেনি পর্যন্ত, করার কথা তো অনেক দূরের ব্যাপার। রেল লাইনে কত দূর অন্তর বড় বড় পুল তৈরী করতে হবে। সে বিষয়ে তারা কোন রকম গুরুত্ব দেয়নি। কম পয়সায় বেশি লাভ তুলে নেওয়ার কাজ করে ও পরে বুঝতে পারে এটা তো তাদের নিজেদের ভাষা ইংরেজীর প্রবাদের মতো পরিনাম দিচ্ছে। প্রবাদটি হল- ‘পৈনী ওয়াল্টজ, পাউণ্ড ফুলিমা’ পয়সা বাঁচাতে হুশিয়ার হতে বললাম, টাকা হারিয়ে বসে থাকলাম।

যখন ইংরেজরা আমাদের এখানে আসে তখন আমাদের এখানে কোন প্রকার সেচ বিভাগ ছিল না। কোনো ইঞ্জিনিয়ার ছিল না, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কোনো ক্রোর্স ছিল না। এই রকম শিক্ষা দেওয়ার মতো কোন বিদ্যালয় বা মহাবিদ্যালয় পর্যন্ত ছিল না।

যে গ্রামে তাঁর ছোটবেলা কেটেছিল সেই গ্রামে নদী ছিল না। উনি সাঁতার শিখতে পারেন নি। কিন্তু এই 52 বছরের লম্বা সময়ে উনি আমাদের সমাজকে, দেশকে অনেকবার ডোবা থেকে বাঁচিয়েছেন।

সেচের কোনো শিক্ষা ছিল না কিন্তু সেচের-শিক্ষণ সব জায়গায় ছিল। আর সমাজ সেই শিক্ষণকে নিজের মনে সাজিয়ে রাখত ও সেই শিক্ষণকে মাটিতে প্রয়োগ করত। যখন ইংরেজ এখানে এসেছে - আরও একবার বলে নি, তখন আমাদের এখানে একজনও সিভিল ইঞ্জনিয়ার ছিল না। কিন্তু সত্যি সত্যি কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ২৫ লাখ পুকুর ছিল। তার থেকেও বেশি সংখ্যায় অগুনতি কুয়ো করা হয়েছিল মাটির স্বভাব জেনে বুঝে। বৃষ্টির জল কিভাবে পুকুরে আসবে, কি রকম জায়গা থেকে, এদিক-ওদিক থেকে বয়ে আসবে - তার আগৌর অভিজ্ঞ চোখ দিয়ে পরিমাপ করে নেওয়া হতো। তারপর এই জল কিভাবে বছরভর পানীয় জল দেবে আর কিভাবে ফসলের জীবন বাঁচবে এই সবের সুক্ষ্ম হিসেব নিকেশ মানুষ হাজার মাইল দূরে বসে ঠিক করত না। সেখানেই বসে সেই জায়গার লোকরা নিজেদের প্রয়োজন সার্থক করতো। এই পরম্পরা আজও পুরোপুরি মুছে যায় নি, তবে অবশ্যই তার প্রতিষ্ঠা কমে গেছে নতুন প্রজন্মের কাছে, শিক্ষিত সমাজের কাছে।তবে লেখাপড়া করা আমাদের এই আজকের সমাজের মানুষের এটা জেনে আশ্চর্য লাগবে যে আমাদের দেশের টেকনিক্যাল শিক্ষা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সমস্ত আধুনিক শিক্ষার ভীত্তি স্থাপনে এই আনপড় বলা হয়, আনপড় মনে করা হয় যে মানুষগুলিকে, তাঁরাই মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন।

আজ অনেক কম লোক এটা বলতে পারবে যে আমাদের দেশে প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কবে ও কোথায় খোলা হয়। সংক্ষেপে এই বিষয়টি আর একবার বলে নেওয়া দরকার -

দেশের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ খোলে হরিদ্বারের কাছে রুড়কি নামের একটি ছোট্ট গ্রামে। সালটি হল- ১৮৪৭ সাল। সেই সময় ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর রাজত্ব। ব্রিটিশ সরকারও আসে নি তখন। কোম্পানীর ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ব্যবসা করা। প্রশাশন বা লোক কল্যান নয়। ব্যবসা শব্দটি শুনতে একটি নিরিহ শব্দ। আাসলে কোম্পানী তো লুটে নেওয়ার জন্যই তৈরী হয়েছিল। এমত অবস্থায় ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী কিভাবে দেশে উচ্চ শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করত।

সে এক লম্বা কাহিনী। আজ এখানে সেটা সবটা বলার প্রয়োজন নেই। তবে এটুকু বলা যেতেই পারে যে, সেই সময় আজকের পশ্চিমী উত্তর প্রদেশের এই ভূখণ্ডটি এক ভয়ানক খরার মধ্যে দিন যাপন করছিল। অবশ্যই খরার একটি কারণ ছিল বৃষ্টি কম হওয়া। তবে ভাল কাজ ও ভাল চিন্তাধারার খরা আগেই এসে পড়েছিল আর তার পিছনে একটা বড় কারণ হল ‘ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী’-র অ-নৈতিকতা।

সৌভাগ্য ক্রমে এই জায়গায়, (সেই সময় ওই ক্ষেত্রটিকে ‘নর্থ ওয়েস্টার্ন প্রভিনসিস’ বলা হতো), একজন খুব সজ্জন ইংরেজ অধিকারীক কাজ করছিলেন। উচ্চ পদে আসীন ছিলেন। তিনি সেখানের উপ- রাজ্যপাল ছিলেন। তাঁর নাম ছিল শ্রী জেম্স থমসন। খরায় মানুষ মারা যাচ্ছে দেখে তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির নির্দেশকদের তিনি একটি চিঠি লিখলেন। চিঠিতে তিনি এই এরিয়ায় একটি বড় নহর তৈরীর প্রস্তাব দেন। ওপর থেকে সেই পত্রের কোন জবাব এলো না। সম্ভবত পত্র প্রাপ্তি স্বীকারের খবর পর্যন্ত আসেনি। থমসন আবার চিঠি লিখলেন। এবারও ফল একই হল। কোন উত্তর পাওয়া গেল না।

তখন থমসন তৃতীয় পত্রে তার পরিকল্পনায় জল, খরা, মানুষের কষ্টের কথা না বলে বদলে ব্যবসা ও লাভের টোপ দিলেন। তিনি হিসেব করে দেখান এতে এত পয়সা সেচের কর পাওয়া যাবে। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর চোখ চকচক করে উঠল। লাভ যদি পাওয়া যায় তো ঠিক আছে। তৈরী কর। কিন্তু তৈরী করবে কে। কোম্পানিতে তো কোন ইঞ্জিনিয়ার নেই। থমসন কোম্পানীকে আশ্বস্ত করে বললেন এখানের গ্রামের লোকেরা তৈরী করে নেবে।

কোন যেমন-তেমন, ছোট-খাটো পরিকল্পনা এটি ছিল না। হরিদ্বারের কাছে গঙ্গা থেকে একটি পরিখা বার করে 200 কিলোমিটার নিয়ে যেতে হবে। এটি শুধু আমাদের দেশের প্রথম বড় সেচ পরিকল্পনা ছিল না, অন্যান্য কোন দেশেও সেই সময় এই রকম কোন কাজ হয়েছিল না।

বিস্তৃত পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা এখানে বলার প্রয়োজন নেই। শুধু এইটুকুই বলার আছে - পরিকল্পনাটি খুব ভালভাবে, সাফল্যের সঙ্গে পূর্ণ করা গিয়েছিল। এই সফলতা দেখে জেম্স থমসন তখন ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কাছে প্রস্তাব দেয় - এই পরিখার ধারে রুড়কি ইিঞ্জনিয়ারিং কলেজ খোলার। এই প্রস্তাবটিও মঞ্জুর হয়ে যায়। কেননা থমসন এই প্রস্তাবটিতেও খুবই কুশলতার সাথে কোম্পানীকে মনে করিয়ে দেয় যে, এই কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়ে ছাত্ররা আপনাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের কাজে লাগবে।

1847 সালে তৈরী হয় দেশের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। শুধু দেশই নয়, সমগ্র এশিয়াতে এই বিষয় পড়ানোর প্রথম কলেজ হল রুড়কি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। যদি আরও একটু এগিয়ে জানতে চান তো, জানার মতো তথ্য হল যে, তখন ইংল্যাণ্ডেও এরকম কোনো কলেজ ছিল না। কায়েক বছর পর ইংল্যাণ্ডের থেকে এক দল ছত্রাকে রুড়কির এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পড়তে পাঠানো হয়।

এই কলেজের ভীতে শক্তপোক্ত ভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যাদের আমরা অশিক্ষিত আখ্যা দিয়েছি সেই মানুষেরা। তখনও মানুষজন এটা দেখতে পায় নি, আর আজতো আমরা তাদের পিছিয়ে পড়া চিহ্নিত করে তাদের বিকাশে, উন্নতিতে বহুবিধ চেষ্টা করে চলেছি। এই প্রসঙ্গে শেষে করার আগে এটাও বলে নেওয়া দরকার যে ১৯৪৭-এ কলেজ খোলার আগে সেখানে তৈরী সেই লম্বা পরিখাটি আজও পশ্চিম উত্তর প্রদেশের খেতগুলিতে সেচের জন্য গঙ্গার জল দিয়ে চলেছে। প্রশাসনিক ভাবে রুড়কি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আাজ উচ্চ মর্যাদা দিয়ে রুড়কী আই.আই.টি করে দেওয়া হয়েছে।

কলেজের মর্যাদা তো অবশ্যই বেড়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে যে মানুষগুলি এই বিশাল সেচ প্রকল্পকে বাস্তবে রূপ দেন, যে মানুষগুলি ইংরেজরা আসার আগে দেশে, দেশের পাহাড়ী এলাকা, মরুময় এলাকা, ময়দানী এলাকা, তটবর্তী এলাকায় জল দর্শনের সুন্দর সংযোজন করে ছিলেন, সেই মানুষগুলি কোন মর্যদা পাননি, আজ তাঁদের পিছনে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

আমাদের দেশ অনেক ব্যাপারেই প্রভুত উন্নতি করেছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে সাথে এই কথাটাও বলতে হবে এই সময়েই দেশে সব থেকে সস্তা কার বিক্রি করতে এসেছিল, আর সব থেকে দামী জলও তথা দেশের অর্ধেক ভাগে ভয়ানক খরাও হয়েছিল। বর্ষাতো হয়ই। কখনও বেশি কখনও কম। গড় একটা পরিসংখ্যান যদিও আমরা বিগত একশো-পঞ্চাশ সাল থেকে রাখছি - এটা খুব বেশি কিছু একটা কাজে লাগে না। গোনার ভরসায়, পরিসংখ্যানের ভরসায় দেশ চলে না।

আধুনিক বাঁধ খরা দূর করতে পেরেছে একথা আমরা হলফ করে বলতে পারি না। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দেশের অন্যভাগেও, যেমন- মহারাষ্ট্রেও ভয়ানক খরা হয়েছিল। আমাদের কৃষিমন্ত্রী এই প্রদেশেরই মানুষ। আর তিনি নিজেই তাঁর এক ভাষণে বলেন- মহারাষ্ট্রে এমন খরা তিনি এর আগে কোনদিন দেখেননি। তাই বড় বাঁধ বেঁধে যাওয়াটা ঠিক নয়। ওই বাঁধগুলিও তো তখনই ভরবে যখন বর্ষা ভাল হবে।

কিন্তু প্রকৃতির ঠিক নেই, ঠিক-ঠাক বর্ষা দেয় না। উনি তো আমাদের মা। মাদার ডেয়ারীর মেসিন নয়, যে যত টোকেন ফেলবেন এতই জল পড়বে। একদিকে আমরা বড় বাঁধে ঘেরা পড়েছি, অন্যদিকে নতুন টেকনলজী ভূ-জল টেনে তোলার ব্যবস্থা করে ফেলেছে। শহরে, গ্রামে সর্বত্র ঝাঁঝরার মতো ফুটো করে ফেলেছি আমরা। আর সত্যি সত্যি মাটির তলায় যে বিশাল জলরাশি পড়েছিল তা টেনে তুলে নিতে পেরেছি । সেখানে ভরিনি কিছুই, ঢালিনি কিছুই।

এইভাবে মাটির তলার জলরাশি হু-হু করে শেষ হয়ে চলেছে। ভূ-জল ভাণ্ডার যেভাবে দ্রুত নেমে যাচ্ছে সেটি দেখানোর জন্য জেলা ভিত্তিক, প্রদেশ ভিত্তিক পরিসংখ্যান দেওয়া যেতে পারে কিন্তু যখন জীবনের প্রাণদায়ী রসই নিংড়ে নেওয়া হচ্ছে তখন নীরস পরিসংখ্যান আর নতুন কি কথা বলতে পারবে। তবুও কোন প্রকার কপটতা ছাড়াই একথাটি বলা যেতে পারে - এই সময় আমাদের রাজনীতি বেশি নীচে নেমেছে না ভূ-জল-এটা নিশ্চিত করা কিন্তু সত্যিই বেশ কঠিন। এই দু-টিরই স্তর ওপরে ওঠাতে হলে আমাদের নিজেদের ওপরে উঠতে হবে।

বিগত কিছুদিন থেকে একটি নতুন শব্দ আমাদের মধ্যে এসেছে – জন ‘ভাগীদারী’ যেমন সব সময় হয়, এরকম নতুন শব্দ প্রথমে ইংরেজীতে আসে তারপর আমরা বিশেষ কিছু না বুঝে-সুজে নিজের ভাষায় অনুবাদ করে ফেলি। কিন্তু যখন এই শব্দটি ছিল না, এই নকল শব্দটি ছিল না তখন আমাদের সমাজে জলের ব্যাপারে অদ্ভুত সুন্দর এক ভাগীদারী ছিল। সেই ‘জন ভাগীদারী’-তে সত্যকার তিন প্রকার ভূমিকা থাকত - মানুষ নিজেরাই নিজেদের গ্রামে, নিজেদের শহরে জলের পরিকল্পনা তৈরী করত। এটা হল প্রথম ভূমিকা। তারপর এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ পেতে - পুকুর, কুয়া, নহর প্রভৃতি তৈরী করতে। এটা ছিল দ্বিতীয় ভূমিকা। আর তৃতীয় ভূমিকায় বা শেষ ভূমিকায় তৈরী হয়ে যাওয়া এই পরিকল্পনাগুলির দেখাশোনার দায়িত্বও নিজেরাই নিত। সেটা কোন দু-চার বছরের জন্য নয়, দু-চার পুরুষ পর্যন্ত চলত এই ব্যবস্থাপনা বা দেখাশোনার কাজ। সবই নিজেদের কাজ মনে করে করা হত। এমনও হয়েছে কোথাও কোথাও সমাজ রাজার ভাগীদারীও স্বীকার করে নিত। একদিক থেকে দেখতে গেলে রাজা ও সমাজ পরস্পর মিলেমিশে এই কাজগুলি খুব সহজেই সম্পন্ন করে ফেলত। আজ খুব কম লোকেরই এই বিষয়ের কিছু স্মৃতি আছে যে আমাদের কিছু নাম, পরিবারের নাম এই সব নামের দ্বারাই চিহ্নিত হত। নহরের যারা দেখাশোনা করতেন তাদের বলা হত নেহেরু। আবার পাহাড়ে সেচের জন্য যে স্থাপত্য এক ধরণের পাহাড়ী নহর, আবার কূল বা তট তৈরী করতেন যারা তারা কোহলী, তো গূল যারা করতেন তারা গুলটী। দেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে অনেক জাতি, অনেক লোক ছিল, যারা গ্রামে ও শহরে জলের কাজ করত। এতে খরা ও বন্যার ধাক্কা সামলানোর কাজও সামিল ছিল। আর এগুলি তারা সত্যি সত্যি মন-প্রান ও ধন ঢেলে করত।

যে কাজ তাদের মনে গেঁথে গিয়েছিল সেগুলি তারা নিজেদের শরীরেও এঁকে নিত। দেশের সমস্ত প্রান্তেই শরীর উল্কি আঁকানোর প্রচলন রয়েছে। এতে শুভ চিহ্ন প্রভৃতির প্রচলন তো ছিলই তবে দেশের কিছু জায়গায় এক বিশেষ চিহ্ন দেখতে পাওয়া যেত। এর নাম ছিল- সীতা বাউড়ি। সোজা-সাপটা আট-দশটি রেখা দিয়ে একটি ভব্য উলকি চিত্র নিজের কব্জিতে যেকোনো মেলাতেই করিয়ে নেওয়া যেতো। এইভাবে জলের কাজ মন থেকে শরীরে ও শরীর থেকে শ্রম দিয়ে তৈরী করে ফেলা হতো মাটিতে।

আজ মাটির দাম আকাশ ছোঁয়া। শহরে তো বটেই অনেক গ্রামেও পুকুর বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। জল সঙ্কট সামনে দাঁড়িয়ে কিন্তু আমরা পিছন ফিরে রয়েছি। নিজেদের জলের স্রোতগুলি নষ্ট করে দেওয়ার পর পিপাশার্ত শহরের জন্য দূর থেকে, বহু দূর থেকে অন্য কারো হক কেড়ে নিয়ে প্রচুর খরচ সাপেক্ষ পরিকল্পনা তৈরী করে জল বয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে।

তবে একটা কথা আমাদের ভোলা উচিত নয়। এই শহরগুলি ইন্দ্র দেবতার কাছে এমন আপিল তো করেনি যে আমাদের পানীয় জল তো এখন শো-দুশো কিলোমিটার দূর থেকে আসছে। আপনি আর আমাদের বর্ষা দেবেন না। আগে তো পুকুরগুলিই বর্ষাকালে শহরে বর্ষিত বর্ষার জল নিজের মধ্যে গুটিয়ে নিয়ে শহরকে বন্যার থেকে বাঁচাতো, শহর সুরক্ষিত থাকত।

ইন্দ্রের এক পুরোনো নাম, বিশেষণ হল পুরন্দর। পুরন্দর মানে যে- পুর, কেল্লা, শহর ভেঙ্গে ফেলে। এই নামটি যখন রাখা হয়েছে তো এর অর্থ এটাও হতে পারে যে ইন্দ্রের সময়েও শহর পরিকল্পনায় খামতি থাকত। আর এই রকম অব্যবস্থিত শহরগুলিকে নিজের বর্ষার আঘাতে নষ্ট করে ফেলতো, বইয়ে দিত।

দিল্লী, মুম্বাই, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালুরু, জয়পুর, হায়দরাবাদ প্রভৃতি নতুন পুরোনো সব শহরগুলিই আধূনিকতার দিকে এগিয়ে চলেছে। আধুনিক হয়ে ওঠা এই শহরগুলি দামি হয়ে ওঠা এইসব শহরগুলি এমনভাবে বন্যায় আক্রান্ত হচ্ছে, যেন আগে কখনও এসব জায়গায় বন্যা হতো না।

আমাদের দেশে সমুদ্র তীরবর্তী রেখা অনেক বড়। পশ্চিমে গুজরাতের কচ্ছ থেকে শুরু করে নীচে কন্যাকুমারীকা ঘুরে এই রেখা বাংলার সুন্দরবন পর্যন্ত একটা বিরাট বড় অংশকে ঘিরে রয়েছে। পশ্চিমী তীরবর্তীতে খুব কম হলেও, পূর্বীয় তীরবর্তী অঞ্চলে এখন সামুদ্রিক ঝঞ্ঝার সংখ্যা ও তার মারণ ক্ষমতাও বেড়ে চলেছে। এই তো কিছুদিন আগেই উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশে ঘূর্ণাবর্ত আসার সূচনা আগে থেকে পাওয়া যাওয়াতে সুরক্ষার ব্যবস্থা ভালভাবে করা সম্ভব হয়েছিল তাই বাকি ক্ষয়ক্ষতি যাই হোক মূল্যবান জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু তার কিছুদিন পরই ওখানে বন্যায় তার থেকেও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে আমরা দেখেছি।

আমাদের পূর্ব র্তীরবর্তী ভূমিতে সামুদ্রিক ঝঞ্ঝা তো আসেই, এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এখন তার ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা বেড়েই চলেছে। এর পেছনে একটা বড় কারণ হল আমাদের কূল তীরবর্তী অঞ্চলের বিশেষ বনগুলি লাগাতার কেটে চলা। যেখানে ধাক্কা খেয়ে তুফান তার বিধ্বংসী শক্তি অনেকটাই হারিয়ে ফেলত।

সমুদ্র ও ধরিত্রীর মিলন একটি বিন্দুতে, হাজার বছরে ধরে সমারোহের মত খাড়া হয়ে থাকা এই বনের নিজস্ব কিছু বিশেষ স্বভাব রয়েছে। দু-বার এরা নোনা জলে ডুব দেয় তো দুবার ডুব দেয় পিছন থেকে রয়ে আসা নদীর মিষ্টি জলে। মাঠে, ময়দানে, পাহাড়ে দাড়িয়ে থাকা গাছ, জঙ্গলের সঙ্গে এর তুলনা করা ঠিক নয়, তুলনা করা যায় না। বনস্পতির এ রকম দর্শন অন্য আর কোনখানে সম্ভব নয়। এখানে এই গাছগুলির এই বনের শেকড়ও ওপরে থাকে। অন্ধকারে, মাটির নীচে নয়, আলোতে, মাটির ওপর। শিকড়, কাণ্ড ও শাখাপ্রশাখা- তিনের দর্শন একসঙ্গে দিতে পারে যে বৃক্ষ, বৃক্ষভরা সেই বন এত সুন্দর হয় যে আমাদের দেশে এই প্রজাতির নামই সুন্দর, সুন্দরী দেওয়া হয়েছিল। তার থেকেই সুন্দরবন।

আজ দুর্ভাগ্যবশত আমাদের শিক্ষিত সমাজ আমাদের বৈজ্ঞানিকেরা প্রায় 13 - 14 টি প্রদেশে ছড়িয়ে থাকা এই বনের এই প্রজাতির যে নিজস্ব একটা নাম ছিল তা ভুলে গিয়েছে। যখনই এই বন নিয়ে, গাছ নিয়ে কোনো কথাবর্তা হয় তখন এর ইংরেজী নাম ম্যানগ্রোভ, নামেই কথা হয়। একবারও আমাদের এটা মনে হয় না যে আমাদের দেশে, যে প্রদেশগুলিতে এই বন রয়েছে সেই প্রদেশগুলির স্থানীয় ভাষায় তো এই বনের নাম থাকবে, তার গুণের স্মৃতি থাকবে। প্রসঙ্গত এই কথাটিও জেনে নেওয়া যায় কি ম্যানগ্রোভ শব্দ কিন্তু ইংরেজী শব্দও নয়, ইংরেজীতে এটি এসেছে পর্তুগালী ভাষা থেকে।

তটবর্তী অঞ্চল থেকে আরম্ভ করলে- পশ্চিম থেকে ওপরে, গুজরাতী, কচ্ছীতে একে ‘চৈরব’ বলে। মারাঠী কোঙ্কনীতে বলে খার পুটী তিওর, আবার কন্নড়ে - কান্ডলা কাডু। তামিলে - সধুপ্পু নিল্লম কাডডু। তেলেগুতে - মাডা আডবী। ওড়িয়াতে বলা হয় ঝাওবন, আর বাংলায় তো সুন্দর বন সবাই শুনেছেন। এছাড়াও আরও একটি নাম আছে মাকড়িশরা। আর হিন্দী প্রদেশ থেকে সমুদ্র তীর তো দূরেই আছে। তবে এমনটাও নয় যে, কোন জিনিস যদি সেই সমাজে না থাকে তাহলে সেই সমাজ তাদের নিজেদের ভাষায় সেই জুবুসের নামই রাখে নি। হিন্দীতে এই বনকে বলে – চমরঙ্গ। কিন্তু এগুলি এই শব্দগুলি এখন নতুন অভিধান থেকে বাদ হয়ে গেছে।

যারা পরিবেশ সম্পর্কে জানেন খবর রাখেন তারা বলছেন - অন্ধ্র ও উড়িষ্যার পারাদ্বীপ অংশে চমরঙ্গ বনের বিকাশের নামে ধ্বংস করা হয়েছে। তারপর এটাও বলা হয়েছিল সুরক্ষার জন্য মজবুত দেওয়াল করে দেওয়া হবে। কিছু বরফের দেশের কথা বাদ দিলে সারা দুনিয়ায় মাটি ও সমুদ্রের মিলনের জায়গায় সুরক্ষার জন্য প্রাকৃতিক ভাবেই ‘সুন্দর’ দেওয়াল, লম্বা - চওড়া সুন্দরী বন গড়ে উঠেছে। আজ আমরা নিজেদের লোভে এই গাছ, বন কেটে তার জায়গায় পাঁচ গজ চওড়া কংক্রিটের দেওয়া করে দিলেই সুরক্ষিত থাকব – এই ভাবনা কত বড় মুর্খতা হবে – সেই কঠিন সত্য বাস্তবে আমাদের না দেখতে হলেই ভাল। ক্লাস ফোরেই পড়ানো হয় – পৃথিবীর 70 ভাগ সমুদ্র রয়েছে আর 30 ভাগ মাটি। সমুদ্রের কাছে আমরা নগন্য। এই সুন্দর বন, এই চমরঙ্গ বন আমরা যেন সমুদ্র গর্ভে বিলীন না হয়ে যাই – সেই সুরক্ষা দেয়।

দেওয়াল তুলে দিলে সমুদ্র সরে যাবে, তীর বেঁধে দিলে বন্যা আটকে যাবে, বাইরের থেকে আনাজ চেয়ে নিয়ে এসে বিলি করলে সমস্যা মিটে যাবে – খারাপ চিন্তা ধারার এই বন্যায়, সেই রকমই ভাল চিন্তার খরায় আমাদের জল সঙ্কট বেড়েছে। আজ আমারা যাঁর পূন্য স্মৃতিতে এখানে একত্রিত হয়েছি, তিনি নিজের সময়, বা সময়ের আগে বলা ভাল এমনই অনেক বিষয়ের দিকে সমাজের নজর ফিরিয়ে ছিলেন।

শ্রী গোখলের সঙ্গে দেখা হবার পর রাজেন্দ্রবাবু প্রায় 52 বছর পর্যন্ত কাজে যুক্ত ছিলেন। যে গ্রামে তাঁর ছোটবেলা কেটেছিল সেই গ্রামে নদী ছিল না। উনি সাঁতার শিখতে পারেন নি। কিন্তু এই 52 বছরের লম্বা সময়ে উনি আমাদের সমাজকে, দেশকে অনেকবার ডোবা থেকে বাঁচিয়েছেন। শেষের 12 বছর তিনি দেশের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। যখন এই নির্নায়কের ভূমিকা শেষ হল তখন 1962 -র মে মাসে একদিন তিনি ট্রেনে চেপে দিল্লী থেকে পাটনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। সেই আশ্রমের ছোট, ঘরটিতে থাকবেন বলে, যেখান থেকে তিনি সর্বজনিক কাজের লম্বা যাত্রা শুরু করেছিলেন।

তাঁর পূণ্য স্মৃতিতে তাঁর প্রতি আমাদের সকলের সশ্রদ্ধ প্রনাম।

Disqus Comment

Related Articles (Topic wise)

Related Articles (District wise)

About the author

अनुपम मिश्रबहुत कम लोगों को इस बात की जानकारी होगी कि सीएसई की स्थापना में अनुपम मिश्र का बहुत योगदान रहा है. इसी तरह नर्मदा पर सबसे पहली आवाज अनुपम मिश्र ने ही उठायी थी.

नया ताजा