অতীতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের নির্মাণ

Submitted by Hindi on Sat, 08/20/2016 - 15:52

বর্তমানে এই সাধারণ বোধ বিশেষ পিরণত হয়েছে। ‘আমরা’ কেটেছেঁটে আজ ‘আমি’-তে স্থির। সর্বত্র আজ এই আমি-র প্রাধান্য। যে দর্শন বিশেষ-কে সামান্যের পথ দেখায়। সেই দর্শনেরই প্রয়োজন জল সমস্যা সমাধানে।

ভারতবর্ষে ভৌগলিক ও আবহাওয়ার বৈচিত্রের জন্যই কোথাও বৃষ্টিপাতে আধিক্য কোথাও বা স্বল্পতা। তবে বৃষ্টি কম হোক বা বেশি জল ছাড়া তো মানুষের চলবে না, বেঁচে থাকার জন্য জল মানুষের জীবনে অপরিহার্য। তাই বৃষ্টিপাত অনুায়ী সেখানকার মানুষ নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা করে নেয়, বা বলা ভালো নিজেদের মতো করে নিয়েছিল সমস্ত কালেই। কেননা আমাদের প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত জল আমরা পেতে পারি শুধুমাত্র বৃষ্টি থেকেই। অবশ্য ভৌমজল তোলার প্রথাও ভারতবর্ষে প্রচলিত। তবে রাজস্থানের প্রকৃতি সেক্ষেত্রেও বাম। তাই রাজস্থানে পানীয় জলের সবথেকে প্রচলিত ব্যবস্থাটি হল কুণ্ড। বৃষ্টির জলকে কুণ্ডতে ধরে রেখে পানীয় জল হিসেবে সারা বছর ব্যবহার করা। জল নিয়ে (বিশেষ করে পানীয় জল) সংকট ও সমস্যা যে ঘনিয়ে আসছে এখন সে কথা সকলের মুখে মুখে। টাউনগুলিতে না হয় পানীয় জল সরবরাহ হয় প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে (যদিও পরিমাপ ও শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়) কিন্তু গ্রামে বর্তমানে পানীয় জলের একমাত্র উত্স বলা যায় টিউওয়েলগুলি। কুয়ো বা ইন্দারর ব্যবহার খুবই অল্প। যদিও বা কিছু জায়গায় রয়েছে, দৃষ্টিভঙ্গী আর রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি ব্যবহারযোগ্য নেই। সব জায়গায় টিউওয়েলগুলিতে গ্রীষ্মে জল না পাওয়া, খারাপ হলে সারানোর সমস্যা এই পরিচিত সমস্যাগুলো বাদ দিয়েও ভয়ানক এক সমস্যায় এখন গ্রামীন পানীয় জল ব্যবস্থায়। আর্সেনিকের যে ভয়াভয় সমস্যা তা আজ সর্বজন বিদিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আরও একটি গুরুতর দূষক ফ্লোরিন এখন আর্সেনিকের দোষর। CENTRAL GROUND WATER BOARD, Ministry of water Resource, Gov. of India, Faridabad, July- 1999 এ একটি জর্নাল বার করে HIGH FLUORIDE GROUND WATER IN INDIA, OCCURRENCES GENESIS AND REMEDIES তাতে তারা ম্যাপে জায়গাগুলিও চিহ্নিত করেছে।

বর্তমান যে অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় রুফ টপ রেন ওয়াটার হারভেস্টিং তা নতুন কিছুই নয়, এই কুণ্ড-রই গাল ভরা নাম। রাজস্থানের মানুষকে শতাব্দীর পর শতাব্দী তৃষ্ণার জল জুগিয়ে চলেছে এই কুণ্ডগুলি। স্থানপোযোগী করে গড়ে নিয়ে যেকোনো জায়গাতেই সারা বছর পানীয় জল দিতে সক্ষম কুণ্ড। সাহস করে আমরা একথা বলতেই পারি কিছুদিনের মধ্যেই বোধহয় আমাদের পানীয় জলের জন্য সব থেকে বেশি নির্ভর করতে হবে এই ব্যবস্থারই ওপর।

ঐতিহ্যময় জলের ঐতিহ্য কুণ্ড বা টাকাগুলিতে বৃষ্টির জল ধরে রেখে সারা বছর তার ব্যবহার রাজস্থানে কোন নতুন কথা নয়। শুধু রাজস্থানই বা কেন, বৃষ্টির জলকে পুরোপুরি ব্যবহার করে আমরা আমাদের সমস্ত সমস্যা ও চাহিদা মেটাতে সক্ষম এরকম উদাহরণের অভাব নেই সারা দেশ জুড়ে। অতীতে এই ব্যবস্থা আমাদের দেশে খুবই সমৃদ্ধ ছিল। আর এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের কথা এখন কমবেশি প্রায় সকলেরই জানা। বর্তমানে বৃষ্টির জল ধরে তার ব্যবহার, ঐতিহ্য থেকে আইনে পরিণত হয়েছে ও হচ্ছে। উদ্ভাবিত হচ্ছে নতুন-নতুন তথ্য টেকনিক বা পদ্ধতি। যা গুরুত্ব ছাপিয়ে আজ একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

'মহাভারতের যুদ্ধশেষে শ্রীকৃষ্ঞ অর্জুনকে নিয়ে দ্বারকায় ফিরছিলেন। রথ চলেছিল মরুভূমির ওপর দিয়ে। তাঁরা দেখেন উত্তুঙ্গ ঋষি তপস্যায় রত। শ্রীকৃষ্ঞ ঋষিকে প্রণাম করে বর চাইতে বলেন। ঋষি করজোড়ে শ্রীকৃষ্ঞকে অনুরোধ করেন, হে ভগবান, যদি আমার কিছুমাত্র পুণ্য থেকে থাকে তো বর দিন যেন মরুভূমিতে কোনদিন জলের অভাব না হয়।'

বর্তমানে এই সাধারণ বোধ বিশেষ পিরণত হয়েছে। ‘আমরা’ কেটেছেঁটে আজ ‘আমি’-তে স্থির। সর্বত্র আজ এই আমি-র প্রাধান্য। জলসমস্যায় এই আমি, আমাদের কোন সংকটময় পরিস্থিতিতে এনে ফেলেছে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই জলসমস্যার সমাধান আমি দিয়ে কখনওই হওয়া সম্ভব নয়। আমিকেই আমাদের পথ দেখায় এই ঐতিহ্যময় জলের ঐতিহ্য। অতীতে আমাদের দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্যেই যা বর্তমান ছিল। এর উদাহরণ আমরা বহুবার দেখতে পেয়েছি শ্রী অমুপম মিশ্রের বিভিন্ন লেখায়, যে দর্শন বিশেষ-কে সামান্যের পথ দেখায়। সেই দর্শনেরই প্রয়োজন জল সমস্যা সমাধানে।

Disqus Comment