বাঁচিয়ে রাখো জল

Submitted by Hindi on Mon, 07/03/2017 - 11:09
Printer Friendly, PDF & Email
Source
গোপালপুর কলম সোসাইটি পরিচালিত পাক্ষিক সংবাদপত্র ‘দুর্বার কলম’, ‘জল’ উত্সব সংখ্যা 2016

নদ - নদী খাল বিল পুকুরে নোংরা জল মিশছে অহরহ। পাঁচশ (500) মিলিয়ন মানুষ বাস করেন নদীগুলির পাড়ে - তারা প্রতিনিয়ত নদীর জল দূষিত করেছেন, কল - কারখানার বর্জ্রও মিশছে জলে, কুড়ি (20) লক্ষ মানুষ প্রতিদিন গঙ্গায় স্নান করেন - তাতেও জল দূষিত হয়। মাটির নীচের জল ক্রমাগত কমতে কমতে প্রায় শূন্যে ঠেকেছে।জলের অপর নাম জীবন - এ অতি পুরানো কথা অথচ এ কথা কোনওদিন পুরানো হবার নয়। পৃথিবী গ্রহ যতদিন থাকবে - এ কথাও ততদিন শাশ্বত সত্য হয়ে বিরাজ করবে। কোনও প্রযুক্তি এখনও এ কথাকে পিছনে ঠেলতে পারেনি। অথচ সকলেই জানে পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর মাত্র এক ভাগ স্থল। অথচ পান করার যোগ্য জল মাত্রই তিন (3) শতাংশ। কারুর মতে পেয় জল পাঁচ (5) শতাংশ, আবার কোনো কোনো মতে তা মাত্রই দুই (2) শতাংশ। মত যা-ই হোক অবস্থাটা যে মোটেই আশাপ্রদ নয় তা আমরা সকলেই জানি। সেই শুদ্ধ জলও আজ মহা সংকটে। নদ - নদী খাল বিল পুকুরে নোংরা জল মিশছে অহরহ। পাঁচশ (500) মিলিয়ন মানুষ বাস করেন নদীগুলির পাড়ে - তারা প্রতিনিয়ত নদীর জল দূষিত করেছেন, কল - কারখানার বর্জ্রও মিশছে জলে, কুড়ি (20) লক্ষ মানুষ প্রতিদিন গঙ্গায় স্নান করেন - তাতেও জল দূষিত হয়। মাটির নীচের জল ক্রমাগত কমতে কমতে প্রায় শূন্যে ঠেকেছে। এক দিন দূরদর্শনে দেখছিলাম - কোনো এক গ্রামে প্রচুর মহিলা কলসি বালতি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন - একজন বাটি দিয়ে দিয়ে বালি সরাচ্ছেন ক্রমাগত, তবে একটু জলের দেখা মিলল। প্রতিবেদকের কথায় জানা গেল এই সব মহিলারা প্রতিদিন প্রায় দু - তিন মাইল উজিয়ে এসে তবেই এই ভাবে রান্না, খাওয়ার জল সংগ্রহ করেন। আমার বুক কাঁপছিল এই সব দেখতে দেখতে।

প্রায় বছর দশেক আগে খবরের কাগজে পড়েছিলাম - যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়, তবে তা হবে জলের জন্য। আবার একদিন পড়লাম, লন্ডনে শুধু টয়লেট করে ফ্ল্যাশ টানতে মানা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, 2025 সালের মধ্যে মহা মহা জল সংকট হবে সারা পৃথিবী জুড়ে। ঐমরা যদি জলের রি - ইউজ করতে না শিখি, তবে এটা নিশ্চিত সত্য যে আমরা আমাদের অতি আদরের পরবর্তী প্রজন্মকে বিশাল বিপদে ফেলে দেব।

আমি, আমার ব্যক্তিগত জীবনে একজন সচেতন দায়িত্ববান নাগরিক হিসাবে কখনই জলের অপচয় করি না, আর জলের রি - ইউজ করি, প্রত্যেক দিনের যাপনে সেগুলি আমি পালন করি তা আমি সকলকে জানাতে চাই। এতে আমরও খরচা বাঁচে আর প্রাকৃতিক সম্পদকেও বাঁচানো হয়।

এগারো বছর আগে এ ব্যাপারে কেন্দ্রিয় সরকারের থেকে আমি একটি পুরস্কার পেয়েছিলাম পাঁচশ (500) টাকার। টাকাটা বড়ো কথা নয় - স্বীকৃতি আর সম্মানটাই বড়ো কথা - এই আনন্দ সংবাদ আমি সকলের সাথে ভাগ করে নিলাম।

আমি, রোজকার জীবনে জল যেভাবে বাঁচাই তা এখানে জানাচ্ছি। আমার পাঠকেরা যতই তারা অর্থবান হন - যদি একটু কষ্ট করে জলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন - আমাদের বাচ্চারা ভবিষ্যতের বিশাল জল সংকট থেকে হয়ত বেঁচে যাবে – আর আমরা সকলেই যদি চেষ্টা করি - নিশ্চয়ই সফল হব। হয়ত এখনও ততটা দেরি হয়ে যায় নি।

কাচাকুচি : আমার রোজকার বাসি জামাকাপড় ওয়াশিং মেশিনেই কাচা হয় - যেহেতু আমার কোমড় ভাঙা - তাই। সেই জল আমি সাথে সাথে ড্রেন করে দিই না। ঐ জল দিয়ে আমি বাথরুম ধোয়াই, উঠান, উঠানের সিঁড়ি সব ধোওয়ার কাজে ব্যবহার করি, ছোট বালতি করে তুলে তুলে – এমন কি টয়লেটেও সেই জল ঢালি।

রান্নাঘর : রান্নাঘরের সবজি ধোওয়া জল, চাল, ডাল ধোওয়া জল আমি একটা গামলায় রাখি। সেই জল আমি আমার যত টবের গাছে দিই, আবার মাটিতে যেসব বড়ো গাছ আছে তাদের গোড়াতেও ব্যবহার করি।

স্নান : জল বাঁচানোর জন্য আমি শাওয়ারকে ব্যবহার করি না। বালতিতে জল ভরে মগ দিয়ে স্নান করি। একটা জলচৌকিতে বসে করি - পায়ের তলায় একটা গামলা পেতে রাখি – যে জলটা জমে সেটা আমি টয়লেটে ইউজ করি।

যে জল রি - ইউজ করতে পারি না - বাসনমাজা জল, সাবান কাচা জল, মাছ, মাংস দোওয়া জল - এই জলগুলিই শুধু ফেলা যায় - এছাড়া সমস্ত জলই সারাদিন আমি রি - ইউজ করি।

প্রথম প্রথম এসব করতে বেশ অসুবিধা হত। কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে আমি এসব অভ্যাস করে নিয়েছি। কয়েকদিন অভ্যাস করে ফেললে আর অসুবিধা হয় না - আমি পৃথিবীর সম্পদ বাঁচাচ্ছি - এ কথা ভেবে অত্যন্ত আনন্দ আর আত্মতৃপ্তি লাভ করি - অসুবিধা কিছু মনে করি না।

আশাকরি সব বন্ধুদের মনেও এভাবে আনন্দ আর তৃপ্তির অনুভূতি হবে -ভবিষ্যত নিদারুণ জল সংকট থেকে পৃথিবী গ্রহ আর ভবিষ্যত প্রজন্ম নিষ্কৃতি পাবে।

ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহারও কমাতে হবে, না হলে ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক ফ্লুরাইডের মাত্রা বাড়তে থাকবে। ভারতে আজও অসংখ্য গ্রাম আছে যেখানে তীব্র জল সঙ্কট বর্তমান। এখনও দেশের বহু গ্রামে প্রায় বেশিরভাগ গ্রামেই পানীয় জল পৌঁছায় না – ভরসা নলকুপ, অগভীর নলকুপ। ফলত আর্সেনিক দূষণের সম্ভাবনা থাকছে। আর্সেনিক ফ্লুরাইড বিষণে শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করবে। সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং সে কারণেই নিরাপদ পানীয় জলের সংরক্ষণও জরুরী। তাই আমরা বলে থাকি জল – এক অমূল্য সম্পদ, কিম্তু বিশ্বজুড়ে যথেচ্ছ অপব্যবহার ও অবহেলার ফলে আর এক বিপদ ঘটে চলেছে, জল দূষণ বাড়ছে এবং বিশুদ্ধ জল দুর্লভ হয়ে পড়ছে। জল ব্যবসায়ীক পণ্যে পরিণত হচ্ছে বা করা হচ্ছে। কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে। অথচ ভূপৃষ্ঠের জল পরিশোধনের জন্য খরচা পড়ে মোটামুটি হাজার (1000) লিটারে তিন (3) টাকা পঁঞ্চাশ (50) পয়সা থেকে মাত্র চার (4) টাকা। সেখানে কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা এক (1) লিটারে জায়গা বিশেষে পনেরো (15) টাকা থেকে পঁচিশ (25) টাকা নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা সরকারী প্রকল্পের পরিশোধনাগারের জল বটলিং - ব্যবহার করে মুনাফা করে চলেছে। জলের সমস্যা সমাধনের আর একটি বিকল্প ব্যবস্থা বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং ব্যবহার। পানীয় ও রান্নার জল সারা বছর সংরক্ষিত জলাধার থেকে ব্যবহার করা যায়। এই ব্যবস্থার জন্য কিছু নিয়মাবলি মেনে চলা প্রয়োজন।

Source: Published at Gopalpur Kalam Society, Sarkar pool, South 24 Parganas, Pin -700143.

Add new comment

This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

5 + 3 =
Solve this simple math problem and enter the result. E.g. for 1+3, enter 4.

Related Articles (Topic wise)

Related Articles (District wise)

About the author

नया ताजा